৯- ক্বিয়াম প্রথা

৯- ক্বিয়াম প্রথা

সপ্তম শতাব্দী হিজরীতে মীলাদ প্রথা চালু হওয়ার প্রায় এক শতাব্দীকাল পরে আল্লামা তাক্বিউদ্দীন সুবকী (৬৮৩-৭৫৬ হিঃ) কর্তৃক  ক্বিয়াম প্রথার প্রচলন ঘটে বলে কথিত  আছে।[13] তবে  এর সঠিক তারিখ ও আবিষ্কর্তার নাম জানা যায় না এবং এর ব্যাপারে আল্লামা সুবকীকে দায়ী করারও কোন যুক্তি নেই।[14] আরো আশ্চর্য হ’তে হয় তখন, যখন জালালুদ্দীন সৈয়ূতী (৮৪৯-৯১১ হিঃ)-এর ন্যায় জগদ্বিখ্যাত বিদ্বান বলেন যে, ‘আমি শরী‘আতে মীলাদের দলীল খুঁজে পেয়েছি’।[15]

এদেশে দু’ধরনের মীলাদ চালু আছে। একটি ক্বেয়ামী, অন্যটি বে-ক্বেয়ামী। ক্বেয়ামীদের যুক্তি হলো, তারা রাসূলের ‘সম্মানে’ উঠে দাঁড়িয়ে থাকেন। এর দ্বারা তাদের ধারণা যদি এই হয় যে, মীলাদের মাহফিলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর রূহ মুবারক হাযির হয়ে থাকে, তবে এই ধারণা সর্বসম্মতভাবে কুফরী। কারণ তাহ’লে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে এ বিষয়ে আগে ভাগেই জানতে হবে যে, (১) অমুক এলাকার অমুক বাড়ীর অমুক কক্ষে মীলাদ হবে (২) বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি মিনিটে অসংখ্য মীলাদের মাহফিলে তাঁকে প্রায় একই সময়ে হাযির হ’তে হবে।

প্রথমটি গায়েব জানার বিষয়,  যা আল্লাহ ছাড়া কারুর পক্ষে সম্ভব নয়। দ্বিতীয়টির ক্ষমতাও কেবলমাত্র আল্লাহর, অন্য কারু নয়। কেননা আল্লাহ বলেন,

وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلى يَوْمٍ يُّبْعَثُوْنَ-

‘(মৃত্যুর পরে) তাদের সামনে পর্দা আছে ক্বিয়ামত পর্যন্ত’ (মুমিনূন ১০০)। হানাফী ‘ফিক্হে আকবরে’ পরিষ্কার বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আল্লাহর নবী (ছাঃ) গায়েব জানতেন, সে ব্যক্তি কাফের’। অনুরূপভাবে ‘তুহফাতুল কুযাত’ কেতাবে বলা হয়েছে, ‘যারা ধারণা করে যে, মীলাদের মজলিসগুলিতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর রূহ মুবারক হাযির হয়ে থাকে, তাদের এই ধারণা স্পষ্ট শিরক’। হানাফী মাযহাবের কিতাব ‘ফাতাওয়া বাযযারিয়া’তে বলা হয়েছে,

مَنْ ظَنَّ أنَّ أرواحَ الأمواتِ  حاضرةٌ نَعْلَمُ يَكْفُرُ-

‘যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মৃত ব্যক্তিদের রূহ হাযির হয়ে থাকে, সে ব্যক্তি কাফের’।[16]রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় জীবদ্দশায় তাঁর সম্মানার্থে উঠে দাঁড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর ধম্কি প্রদান করেছেন (তিরমিযী, আবূদাঊদ)[17] অথচ মৃত্যুর পর তাঁরই কাল্পনিক রূহের সম্মানে দাঁড়ানোর উদ্ভট যুক্তি ধোপে টেকে কি?

 

[13] . আবু ছাঈদ মোহাম্মাদ, মিলাদ মাহফিল (ঢাকা ১৯৬৬), পৃঃ ১৭।

[14] . দ্রঃ তাজুদ্দীন সুবকী, তাবাক্বাতু শাফেঈয়াহ কুবরা (বৈরুতঃ দারুল মারিফাহ, তাবি, ১৩২২ হিঃ ছাপা হতে ফটোকৃত), ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃঃ  ১৭৪।

[15] . হাভী (ঐ, ফৎওয়া)-এর  বরাতে আল-ইনছাফপৃঃ ৪০।

[16] . মীলাদে মুহাম্মাদী পৃঃ ২৫, ২৯।

[17] .عن معاوية قال قال رسول الله (ص) من سره أن يتمثل له الرجال قياما فليتبوأ مقعده من  النار، رواه الترمذى وأبوداود بإسناد  صحيح، مشكوة للألبانى كتاب الاداب ح/৪৬৯৯

মিশকাত, তাহকীক  আলবানী (বৈরুত ছাপা, ১৯৮৫) আদাবঅধ্যায়, হা/৪৬৯৯।

Advertisements
This entry was posted in 02. মীলাদ প্রসঙ্গ, 09. ক্বিয়াম প্রথা. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s