২. ঈদে মীলাদুন্নবী , ৩- মীলাদের আবিষ্কর্তা

২.  ঈদে মীলাদুন্নবী

জন্মের সময়কাল (وقة الولادة )-কে আরবীতে ‘মীলাদ’ বা ‘মাওলিদ’ বলা হয় (আল-ক্বামূসুল মুহীত্ব)। সে হিসাবে ‘মীলাদুন্নবী’-র অর্থ দাঁড়ায় ‘নবীর জন্মমুহূর্ত’। নবীর জন্মের বিবরণ, কিছু ওয়ায ও নবীর রূহের আগমন কল্পনা করে তার সম্মানে উঠে দাঁড়িয়ে ‘ইয়া নবী সালাম আলায়কা’ বলা ও সবশেষে জিলাপী বিলানো-এই সব মিলিয়ে ‘মীলাদ মাহফিল’ বর্তমানে একটি সাধারণ ধর্মীয় (?) অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বরং ধর্মের নামে সৃষ্ট এই অনুষ্ঠানটি ইসলামে স্বীকৃত দু’টি ‘ঈদ’ অনুষ্ঠানের সঙ্গে তৃতীয় আরেকটি ‘ঈদ’ হিসাবে সংযোজিত হয়েছে। অন্য দুই ঈদের ন্যায় এদিনও সরকারী ছুটি ঘোষিত হয়। মিল, কল-কারখানা, অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। মুসলিম সমাজে প্রচলিত বহুবিধ শিরক ও বিদ‘আতী অনুষ্ঠান সৃষ্টির মূলে রয়েছে হীন রাজনৈতিক স্বার্থ ও দুনিয়াদার কিছু আলিমের দুঃখজনক ফৎওয়া। সরকারী পলিসি হিসাবে কিছু মুসলিম শাসক ও তাদের উত্তরসূরীগণ ধর্মের নামে বিভিন্ন কুসংস্কার চালু করেছেন। আর সেটাকে সাধারণ মুসলমানের নিকটে গ্রহণযোগ্য করে তোলার দায়িত্ব নিয়েছেন যুগে যুগে কিছু সংখ্যক নামধারী আলেম। প্রচলিত ‘ঈদে মীলাদুন্নবী’ বা ‘মীলাদুন্নবী’র অনুষ্ঠান অনুরূপভাবে ধর্মের নামে সৃষ্ট একটি বিদ‘আতী অনুষ্ঠান মাত্র।

৩- মীলাদের আবিষ্কর্তা

ক্রুসেড বিজেতা মিসরের  সুলতান ছালাহুদ্দীন আইয়ূবী (৫৩২-৫৮৯ হিঃ) কর্তৃক নিয়োজিত ইরাকের ‘এরবল’ এলাকার গভর্ণর আবু সাঈদ মুযাফ্ফরুদ্দীন কুকুবুরী (৫৮৬-৬৩০ হিঃ) সর্বপ্রথম কারো মতে ৬০৪ হিঃ ও কারো হিসাব মতে ৬২৫ হিজরীতে মীলাদের প্রচলন ঘটান বলে কথিত আছে।[6] প্রতি  বৎসর মীলাদুন্নবীর মওসুমে প্রাসাদের নিকটে  তৈরী অন্যূন ২০টি খানকাহে তিনি গান-বাদ্যের আসর বসাতেন। কখনও মুহাররম কখনও ছফর মাস থেকে এই মওসুম শুরু হ’ত। মীলাদুন্নবীর দু’দিন আগে থেকেই খানক্বাহের আশে পাশে গরু-ছাগল যবাই-এর ধুম পড়ে যেত। কবি, গায়ক, ওয়ায়েয সহ অসংখ্য লোক সেখানে ভিড় জমিয়ে মীলাদুন্নবী উদযাপনের নামে চরম স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত হ’ত।[7] ইবনুল জাওযী বলেন, গভর্ণর নিজে নাচে অংশ নিতেন।’ মুইয্যুদ্দীন হাসান বলেন, তিনি আলেমদেরকে উপঢৌকন ও চাপ দিয়ে মীলাদের পক্ষে জাল হাদীছ ও বানাওয়াট গল্প লিখতে বাধ্য করতেন’।[8] উদ্দেশ্য আর কিছুই নয়, মিথ্যা নবী-প্রেমের মহড়া দেখিয়ে জনসাধারণের মন জয় করা।

 

[6] . মুহাম্মাদ জুনাগড়ী, মীলাদে মুহাম্মাদী (মউ, ইউ পি ১৯৬৭), পৃঃ ৫; আবুবকর আল-জাযায়েরী, অধ্যাপক মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েত ছাপা, তাবি), পৃঃ ৩১।

[7] . বিস্তারিত দেখুনঃ তারীখু ইবনে খাল্লিকান, (বৈরুত ছাপা, তাবি), ৪/১১৩-২১ পৃঃ; আহমাদ তায়মূর পাশা, যাবতুল আলাম (কায়রো ১৯৪৭), পৃঃ ১৩৭।

[8] . আব্দুস  সাত্তার দেহলভী, মীলাদুন্নবী (করাচী ছাপা, তাবি), পৃঃ ২০, ৩৫।

Advertisements
This entry was posted in 02. ঈদে মীলাদুন্নবী, 02. মীলাদ প্রসঙ্গ, 03. মীলাদের আবিষ্কর্তা. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s