১৪- প্রেমের প্রদর্শনী

১৪- প্রেমের প্রদর্শনী

আল্লাহ বলেন, হে নবী! ‘আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তবে আমার অনুসরণ কর। তাহ’লে তিনি তোমাদেরকে ভালবাসবেন ও তোমাদের গুনাহ সমূহ মার্জনা করবেন’ (আলে ইমরান ৩১)

কিন্তু প্রচলিত মীলাদ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা কার অনুসরণ করছি? নবী (ছাঃ) কি জীবনে কখনো তাঁর নিজের মীলাদ বা জন্মবার্ষিকী পালন করেছেন? তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ চার সাথী, সংকট মুহূর্তের সঙ্গী, দু’জন শ্বশুর ও দু’জন জামাই, জীবনের চেয়ে যারা নবীকে বেশী ভালবাসতেন, সেই মহান চার খলীফা দীর্ঘ ত্রিশ বৎসর খেলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁরা তো কখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে কিংবা ব্যক্তিগতভাবে প্রিয়নবীর উদ্দেশ্যে ‘মীলাদ’ অনুষ্ঠান করেননি। উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে ইযাম কেউ তো কখনো মীলাদ অনুষ্ঠান করেননি। বাংলাদেশে বর্তমানে একদিন শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকলে নাকি কমপক্ষে সাড়ে চার শত কোটি টাকা লোকসান হয়। মাননীয় বর্তমান অর্থমন্ত্রীর দেওয়া এই হিসাব যদি সঠিক হয়, তবে কেন ধর্মের নামে একজন গভর্ণরের আবিষ্কৃত বিদ‘আতী অনুষ্ঠান পালনের জন্য সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়? কেনইবা এই বিদ‘আতী অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতি বছর মিথ্যা নবীপ্রেমের প্রদর্শনী করা হয়? আমরা কি তবে অনুসরণ করছি আল্লাহর নবীর, না গভর্ণর কুকুবুরীর?

এখন আর মীলাদ কেবল বার্ষিকী নয়, বরং হর-হামেশা বিভিন্ন উপলক্ষে মীলাদ হচ্ছে। মীলাদ যেন কল্যাণ ও মুক্তির অসীলা। নামাযীদের চেয়ে বে-নামাযীদের ঘরেই যেন মীলাদের সরগরম বেশী। অমনিভাবে মীলাদী মৌলবী ছাহেবরা নিজ বাড়ীতে সম্ভবতঃ কখনোই মীলাদ করেন না। অন্যের বাড়ীতে মীলাদ পড়া বা পড়ানোর ব্যাপারে তাঁদের আগ্রহ খুবই বেশী দেখা যায়।

বর্তমানে মীলাদ রাজনীতির হাতিয়ার হিসাবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিগত যুগে গভর্ণর কুকুবুরী যেমন  মীলাদ চালু করে জনসাধারণের ধর্মীয় অনুভূতিকে আকৃষ্ট করতে চেয়েছিলেন। বর্তমান যুগে তেমনি আমাদের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলি সেই পথ অনুসরণ করছে।  এরা মুখে আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা বললেও আসলে চান ভোটারদের মনস্ত্তষ্টি। শিরক ও বিদ‘আতকে  এরা শুধু বরদাশত-ই করেন না, বরং লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে বড় বড় অনুষ্ঠান করেন। অধুনা নবীপ্রেমের মহড়া দেখিয়ে শহরে-নগরে বড় বড় মিছিলের প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। অথচ অতি পবিত্র ছালাতও যদি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে হয়, তাহ’লে ছওয়াব তো দূরের কথা সেই ছালাত শিরকে পরিণত হয় এবং ঐ মুছল্লী কবীরা গোনাহগার হয়’।২৮

যদি তারা সত্যিকার অর্থে ইসলামের খাদেম হ’তেন, তাহ’লে শিরক ও বিদ‘আতকে উৎখাত করাই তাদের আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য হ’ত। যুগের দোহাই পেড়ে পাশ্চাত্য রাজনীতির সাথে আপোষ না করে ইসলামের  নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আপোষহীনভাবে এগিয়ে যেতেন। ইসলামের খিদমতের বদৌলতেই হয়তোবা আল্লাহপাক তাদের উপরে রহম করতেন। অথবা  যদি তারা সত্যিকার অর্থে জনগণের  খাদেম হ’তেন, তাহ’লে কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন  শেরেকী ও বিদ‘আতী অনুষ্ঠানের পিছনে অপচয় না করে ঐ টাকা দিয়ে এদেশের  অগণিত ভূখা-নাঙ্গা মানুষের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান ও চিকিৎসার ন্যূনতম ব্যবস্থা করে অশেষ ছওয়াবের অধিকারী হ’তেন এবং সাথে সাথে দেশী-বিদেশী সূদখোর এনজিও-দের খপ্পরে পড়ে অর্থ-সম্পদ ও ঈমান হারানো থেকে দরিদ্র জনসাধারণকে কিছুটা হ’লেও বাঁচাতে পারতেন। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সুন্নাতের অনুসারী হয়ে তাঁর প্রিয় বান্দা হওয়ার তাওফীক দান করুন। -আমীন!!

مسلك سنت يه ايــ سالك جلـ جايــ دهرك

جنت الفردوس تك سيدهى جلى كئى يه سرك

‘সুন্নাতের রাস্তা ধরে নির্ভয়ে চল হে পথিক! জান্নাতুল ফেরদৌসে সিধা চলে গেছে এ সড়ক’।

[28] .আহমাদ, মিশকাত (কিতাবুর রিক্বাক্ব), ‘রিয়াঅধ্যায় হা/৫৩১৮।

Advertisements
This entry was posted in 02. মীলাদ প্রসঙ্গ, 14. প্রেমের প্রদর্শনী. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s