১০- অন্যান্যদের সাথে সামঞ্জস্য

১০- অন্যান্যদের সাথে সামঞ্জস্য

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে জন্মাষ্টমীতে হিন্দুরা যে অনুষ্ঠান করে থাকেন, সেখানে একজন ভাল বক্তা আসেন। ধূপদান, লোবান ও মোমবাতির মাঝে বক্তার ডাইনে থাকে পবিত্র গ্রন্থ ‘গীতা’ এবং পিছনে থাকে শিষ্যের দল। অতঃপর বক্তা বিভিন্ন ভঙ্গীতে মহামতি শ্রীকৃষ্ণের জীবনী বর্ণনা শুরু করেন এবং ফাঁকে ফাঁকে সুরেলা কণ্ঠে প্রশংসা সূচক কবিতা আওড়াতে থাকেন।

উপস্থিত শ্রোতা ও শিষ্যমন্ডলীর সকলে মাথা দুলিয়ে তালে তাল মিলিয়ে ঐ সুর ভাঁজতে থাকেন। এমন সময় হঠাৎ এক পর্যায়ে বক্তা দাঁড়িয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে অন্য সকলে দাঁড়িয়ে ঢোল-করতাল বাজিয়ে সমস্বরে গাইতে থাকেন ‘স্বর্গে ছিল রামের নাম, মর্ত্যে কে আনিল রে…?’[18]

হে মীলাদ ভক্ত পাঠক! একবার তাকিয়ে দেখুন আপনার মৌলবী ছাহেব কি পড়ছেন। তিনি রাসূল মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে মীলাদের মাহফিলে হাযির জেনে হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেছেন। আপনিও তাঁর সঙ্গে কলের পুতুলের মত দাঁড়িয়ে গেলেন এবং নবীর কাল্পনিক রূহকে সম্মান জানিয়ে সকলে একই সুরে ‘ইয়া নবী সালাম আলায়কা’ (হে নবী তোমাকে সালাম) শুরু করে দিলেন।

অতঃপর আপনার মৌলবী ছাহেব মাথা দুলিয়ে সুরের তরঙ্গ উঠিয়ে ভক্তিরসে গলা ডুবিয়ে আরবী, ফার্সী, উর্দূ, বাংলাতে নবীর প্রশংসায় কবিতা শুরু করলেন। হিন্দু বক্তারা স্বর্গের রামকে দুনিয়ার শ্রীকৃষ্ণ ভেবেছেন। আর আপনার মৌলবী ছাহেব আল্লাহর নবীকে স্বয়ং আল্লাহ ভেবে নিলেন। ঐ শুনুন তাঁর শ্রুতিমধুর উর্দূ কবিতার একটি অংশ-

وه جو مستوى عرش تها خدا هو كر

اتر يرا هــ مدينه مين مصطفى هو كر

ওহ্ জো মুস্তাবী আরশ থা খোদা হো কর্

উতার পড়া হ্যায় মদীনা মেঁ মোছতফা হো কর্

অর্থঃ আরশের অধিপতি আল্লাহ ছিলেন যিনি, তিনিই মুছতফা রূপে মদীনায় অবতীর্ণ হলেন’ (নাঊযুবিল্লাহ)। শী‘আরা তাদের তৈরী তা‘যিয়াকে ‘হাসান-হোসায়েন-এর রূহ নাযিলের স্থান’ (محل نزول أرواح إمامين) বলে মনে করেন এবং তা‘যিয়া-র যেয়ারতকে ‘দুই ইমামের যেয়ারত’ বলে গণ্য করে থাকেন। মীলাদী ভাইয়েরা মীলাদ মাহফিলকে ‘রাসূলের রূহ নাযিলের স্থান’ (محل نزول روح ير فتوح) মনে করে তাকে দাঁড়িয়ে বা কেউ বসে সালাম দিয়ে থাকেন।[19] খৃষ্টানদের অবস্থাও তাই। তারা গীর্জায় উপাসনাকালে শ্রদ্ধাভরে দাঁড়িয়ে যীশুর গুণগান করেন। যীশুর সঠিক জন্ম তারিখ তাদেরও জানা নেই। কল্পনার উপরে ভিত্তি করে ২৫শে ডিসেম্বরকে তারা যীশুর জন্মদিবস ধরে নিয়ে ‘বড়দিন’ (Christmas day) পালন করে চলেছেন। কি সুন্দর আন্তর্জাতিক ঐক্য!!

 

[18] . মিলাদ মাহফিল পৃঃ ৬৩।

[19] . আহমাদ আলী সাহারাণপুরী ও রশীদ আহমাদ গাংগোহী, ফাতাওয়া মীলাদ শরীফ (দেওবন্দঃ মাকতাবা রাশেদ কোং, ১৩১৭ হিঃ), পৃঃ ৪।

Advertisements
This entry was posted in 02. মীলাদ প্রসঙ্গ, 10. অন্যান্যদের সাথে সামঞ্জস্য. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s